সুনামগঞ্জ , রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিল সংসদে পাস কোথাও ধান কাটার উৎসব, কোথাও জলের নিচে স্বপ্ন মুক্তিপণ নেয়ার পরও অপহরণকারীরা ফেরত দেয়নি মোনায়েমকে, উৎকণ্ঠায় পরিবার টাঙ্গুয়ার হাওরে ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প কমিউনিটি ভিত্তিক স্বপ্ন কি টিকে থাকবে? দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট : হাসনাত আব্দুল্লাহকে স্পিকার সংসদে ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস শাল্লায় নিরীহ পরিবারের বাসা দখলে ঘোষণা দিয়ে হামলা ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন চায় বিএনপি’র তৃণমূল দালালের ফাঁদে নিঃস্ব অভিবাসন প্রত্যাশীরা, হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২০ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল’ পাস শান্তিগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধ কর্তন পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, মেরামতের নির্দেশ উদ্বোধন হলো ‘মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ হাওরে দেশি ধান কাটা শুরু দোয়ারাবাজারে অভিযুক্ত শিক্ষককে কর্মস্থলে ফেরানোর চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের বাধা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষক নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন সাইফুল ইসলাম নিজেদের টাকায় সরকারি সড়ক সংস্কার করলেন এলাকাবাসী ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ সংসদে পাস

সুনামগঞ্জ-২ আসনে ‘দল নয় ব্যক্তি বড়’ নাছিরের জয়ে সুরঞ্জিতের ছায়া

  • আপলোড সময় : ১৬-০২-২০২৬ ০৯:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০২-২০২৬ ০৯:৩৫:১৯ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ-২ আসনে ‘দল নয় ব্যক্তি বড়’ নাছিরের জয়ে সুরঞ্জিতের ছায়া
বিশ্বজিত রায় ::
মর্যাদাপূর্ণ সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) ধানের শীষ প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন চৌধুরী। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আবারও আপসহীন রায় দিয়েছে দিরাই-শাল্লার মানুষ। তাদের ভোটে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি অ্যাড. শিশির মনির পরাজিত হয়েছেন। তিনি পরাজয় মেনে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মিষ্টিমুখও করিয়েছেন বিজয়ী প্রার্থীকে।
সচেতন ভোটাররা মনে করছেন- এই জয়-পরাজয়ে প্রয়াত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন ছায়াসঙ্গী হয়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পথসভা ও গণসংযোগে সুরঞ্জিতের সংগ্রাম, সংসদীয় প্রজ্ঞা ও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন প্রার্থীরা। শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছাত্তার মিয়া বলেন, সুরঞ্জিতের মৃত্যুর পর সবক’টি নির্বাচনেই তাঁর অদৃশ্য ছায়া পড়েছে। এ নির্বাচনেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রভাব ছিল। নাছির চৌধুরী জনপ্রিয় নেতা হলেও সুরঞ্জিতকে ভালোবাসেন এমন ভোটাররাই তাঁর জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতিতে বহুল প্রচলিত ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’ উক্তিটি যেখানে বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে। অতীতের ন্যায় এবারের ভোটের হিসাব-নিকাশেও ‘দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়’ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ‘সুরঞ্জিতের আসন’ খ্যাত দিরাই-শাল্লা নির্বাচনী এলাকায় এবারও ভোটে ভাটাহীন ভাব জমিয়ে মুখে মুখে ফিরেছেন সাতবারের প্রয়াত এই সংসদ সদস্য। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে যাঁকে হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়ার মওকা পেয়েছিলেন নাছির চৌধুরী। তৎপর ভোটের রাজনীতিতে ‘ভাটির শার্দূল’ হিসেবে জনশ্রুতি পেয়েছেন তিনি। জীবনের শেষ ভোটেও সুরঞ্জিতের অদৃশ্য ছায়া পড়েছে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের উপর।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির চৌধুরীর নির্বাচনে ঘুরেফিরে এসেছে সুরঞ্জিতের নাম। গেল ৫ ফেব্রুয়ারি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুবার্ষিকীতে দীর্ঘ অসুস্থতা কাটিয়ে ফেরা নাছির চৌধুরীর সমব্যথী প্রতিক্রিয়া ভোটের মাঠে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জীবদ্দশায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুরঞ্জিতকে টেক্কা দেওয়া এই রাজনীতিক ছাত্রজীবনে সিলেটের এমসি কলেজ ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। ১৯৮৫ ও ১৯৮৯ সালে টানা দুইবার দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সুনামগঞ্জ-২ আসনে সুরঞ্জিতকে হারিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন নাছির চৌধুরী। তখন তাঁর ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে সুরঞ্জিত পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৪৯৬ ভোট। পরে বিএনপিতে যোগ দেন ভাটির এই নেতা। বিএনপির টিকেটে ২০০১ ও ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সুরঞ্জিতের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করা নাছির চৌধুরী।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, দিরাই-শাল্লা আসনে সর্বদা ব্যক্তি ভাবমূর্তিই প্রাধান্য পেয়েছে। হাওরাঞ্চলে ‘জাল যার জলা তার’ আন্দোলনে সফল সুরঞ্জিত সেই ব্যক্তি। ভোটের রাজনীতিতে তুমুল জনপ্রিয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। এ আসন থেকে সাতবার নির্বাচন করেছেন তিনি। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুর পর ব্যক্তি ইমেজের একটুও ভাটা পড়েনি তাঁর। সেই সুবাদে স্ত্রী জয়া সেনগুপ্তা ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। সেবার ২০০৮ সালে জয়ী সুরঞ্জিতের চেয়েও বেশি (৯৫ হাজার ৯৫৯) ভোট পেয়েছিলেন জয়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এ ধারা অব্যাহত ছিল। সুরঞ্জিতের ব্যক্তি ভাবমূর্তির জোরে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আল আমিন চৌধুরীকে কাঁচি প্রতীকে পরাজিত করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়া সেন। তখন দলীয় প্রার্থীর সাথে জয়া সেনের ভোটের ব্যবধান ছিল ২৫ হাজার ১৪১ ভোটের।
রাজনীতি সচেতন মানুষের দাবি, সুরঞ্জিতের ব্যক্তি ভাবমূর্তি সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। এ নির্বাচনে নাছির চৌধুরীর বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে ঘুরেফিরে এসেছে সুরঞ্জিতের নাম।
দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের তাড়ল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুমন চৌধুরী বলেন, নন্দিত নেতা হিসেবে প্রার্থী-ভোটার সকলেই সুরঞ্জিত সেনকে স্মরণ করেছেন। সুরঞ্জিত সমর্থিত ভোটার যারা আছেন, তাদের বেশির ভাগ ভোট নাছির চৌধুরীর বাক্সেই পড়েছে। বিজয়ের ক্ষেত্রে সেই ভোট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। 
​​​​​​
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট। নাছির চৌধুরী ৩৬ হাজার ৩০২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনের ১১১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৫৪ দশমিক ৭৩ ভাগ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স